রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে মনোনীত কোনো প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি নির্ধারিত বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভোটাররা একইসঙ্গে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গণভোটে তাদের মতামত প্রদান করবেন। এ কারণে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটগ্রহণের সব সামগ্রী ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ৯২৩ জন। পুরুষ ও নারী ভোটার প্রায় সমান। নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণেও এবারের নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলায় মোট ২৬ হাজার ৩৩৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বাড়তি নজরদারি। স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
এছাড়া সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের মাঝে বাড়তি নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করবে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে কুমিল্লাসহ সারাদেশে নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সবার নজর শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার দিকে।