নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক আতংকের নাম সাব্বির উদ্দিন মাসুম। এই সাব্বির উদ্দিন মাসুমের একই অংগে বহুরুপ! সে নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিলেও সে মুলতঃ পতিত ফ্যাসিস্ট এর বলয়ে থেকেছে সব সময়। তার আপন ভাই ও বাবা হচ্ছেন আওয়ামী লীগার। সেই সুবাদে তিনি আওয়ামী পরিবারের সদস্য ও সুফল ভোগকারী। সাব্বির উদ্দিন মাসুম আওয়ামী পরিবারের সদস্য হওয়ার দরুন বিএনপির চরম দুঃসময়েও সে স্থানীয় রাজনীতিতে কোন অবদান রাখেনি। এমনকি ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া অগনিত মিথ্যা মামলার একটিতে ছিল না তার নাম। কোনদিন গ্রেফতারও হতে হয়নি তাকে। সে এখন ফজলুল আজিমের ডান হাত খ্যাত নব্য বিএনপি নেতা। এই পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে নলচিরা ঘাটে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন বীরদর্পে। জনরোষ ও প্রশাসন থেকে বাঁচাচ্ছেন আওয়ামী পদধারী নিজের বাপ ও ভাইকে।
উল্লেখ্য যে, পতিত স্বৈরাচারের আমলে ফ্যাসিস্ট এমপি মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠজন ছিল তার আপন ভাই আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান মেহেদী। এই মেহেদী ফ্যাসিস্ট এমপি মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ মদদে নলচিরা ঘাটে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত ছিল। মানুষের এই রক্তচোষা চাঁদাবাজির অর্থের অর্ধেক নিতো মোহাম্মদ আলী, আর বাকি অর্ধেক মেহেদী নিজে ভোগ করে হয়েছিল বিত্তবৈভবের অধিকারী। যেই অর্থের ভাগিদার করেছিল নব্য বিএনপি নেতা খ্যাত সাব্বির উদ্দিন মাসুমকেও। মজার ব্যাপার হচ্ছে মোহাম্মদ আলীর এই সকল চাঁদাবাজির অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করতো নব্য বিএনপি নেতাখ্যাত সাব্বির উদ্দিন মাসুমের ব্যাংকার বাবা। যিনি ব্যাংকিং চ্যানেলেই নিজেই প্রতিনিয়ত মোহাম্মদ আলীর অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারে সহযোগিতা করতেন।
হাতিয়ার সাধারণ মানুষের রক্তচোষা নলচিরা ঘাটের চাঁদাবাজির টাকায় এই পরিবারের এতো লোভ জন্মেছে যে, পতিত স্বৈরাচারের পতনের পর জেলে আটক থাকা ফ্যাসিস্ট এমপি মোহাম্মদ আলীর চাঁদাবাজির এই সাম্রাজ্য এখন তারই অনুগত সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদীর মধ্যস্থতাই ফিফটি ফিফটি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চাঁদার টাকা উত্তোলন করছেন। আর এ কাজটি করতেছেন তারই ভাই বর্তমানের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা নব্য বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী সাব্বির উদ্দিন মাসুম। এরই ফলশ্রুতিতে মোহাম্মদ আলী জেলে থেকেও প্রতিনিয়ত ৫০ শতাংশ চাঁদার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন অনায়াসেই। এই সাব্বির উদ্দিন মাসুম কর্তৃক নলচিরা ঘাটের উত্তোলনকৃত চাঁদাবাজির টাকার বাকি ৫০ শতাংশ চাঁদা সে ও ফজলুল আজিম অনুসারীরা এবং স্থানীয় প্রশাসন মিলিয়ে প্রত্যেহ ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছেন। কিন্তু অপবাদ পড়ছে গোটা বিএনপি পরিবারের উপর। আর একারণেই হাতিয়ার সাধারণ জনগন প্রতিনিয়ত অসন্তুষ্ট হচ্ছে ও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি থেকে।
প্রকাশ থাকে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুত থাকলেও স্বচ্ছ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বার্তাকে পরোয়া না করে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সাব্বির উদ্দিন মাসুম হয়ে উঠেছে নলচিরা ঘাটের মূর্তিমান আতংক ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজ। এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজ আওয়ামী পরিবারের সদস্য নব্য বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী সাব্বির উদ্দিন মাসুমকে যদি এখনই সাংগঠনিকভাবে ও প্রশাসনিক আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে থামানো না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিরাগভাজন হয়ে উঠবে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির রাজনীতি। ক্ষতিগ্রস্ত হবে আগামীর জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠও।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাব্বির উদ্দিন মাসুমকে একাধীক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।