চিকিৎসক সংকটে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও শয্যার অভাব থাকায় রোগীদের অনেককেই মেঝে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ জন, যা গ্রীষ্মকালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত। অনেক রোগী জায়গার অভাবে বারান্দায় অবস্থান করছেন। এখানে ১৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। নিয়ামতপুর উপজেলায় প্রায় ছয় লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিকিৎসক ছাড়াও নার্স ২৫ জনের স্থলে আছে ২৫ জনই কিন্তু রুগীর ভর্তির সংখ্যা অনুযায়ী এই তুলনায় নার্সদের সংখ্যা কম বলে জানান নার্সদের সিনিয়র স্টাফ আতিকুর রহমান। তিনি আরো বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন।
চিকিৎসা নিতে আসা সাবিনা আক্তার বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেছি, কিন্তু গাইনি ডাক্তার না থাকায় শুধু ওজন ও প্রেসার মেপে পাঠিয়ে দিয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা মাবিয়া বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। এত কষ্ট করে এসেও ডাক্তার না পাওয়ায় খুবই হতাশ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদেরও আছে নানান অভিযোগ, রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে খাবার মানসম্মত হলেও খাবারের পরিমাণটা অল্প হওয়াতে বাইরের খাবার কিনে খেতে হয় বলে মন্তব্য করেন হাসপাতালে ভর্তি রুগীরা।
আর এম ও ডাঃ মোঃ মুজতাহিদ হাসান বলেন, একজন রোগীর জন্য প্রতিদিন আয়কর ভ্যাট সহ ১৭৫ টাকা বরাদ্দ, এই ১৭৫ টাকা বরাদ্দের মধ্য সকালে একটি ডিম, একটি পাউরুটি, একটি কলা ও চিনি সকালের নাস্তায় পেয়ে থাকেন এবং প্রতি সপ্তাহে দুপুরে ও রাত্রে একদিন ব্রয়লার মুরগি , একদিন মাছ, একদিন পাকিস্তানি মুরগী, একদিন খাসির মাংস সাথে সবজি দিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ৮০ জন রুগী ভর্তি থাকেন। এই ৫০ জনের বরাদ্দকৃত খাবার থেকেই ৮০ জনকে খাবার দেওয়া হয়। তাই এই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হলে বাকি রোগীদের খাবারের সমস্যা হবে না। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়ে নিয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উত্তীর্ণ করার।
কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সদের সিনিয়র স্টাফ আতিকুর রহমান বলেন- নার্স ও ডাক্তারের সংকটের জন্য আমাদেরও অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। রোগীদের চাপ বেশি হওয়াতে সেই হিসেবে নিয়ামত পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো নার্স ও ডাক্তারের সংখ্যা বাড়তি করার প্রয়োজন। সেই সাথে নেয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোড় দাবি করেন। 
ডাক্তার সংকটের জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ মুজতাহিদ হাসান বলেন, প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় শত রোগী সেবা নিচ্ছেন। সীমিত জনবল নিয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৮০ জন রোগী ভর্তি হওয়াতে ৫০ জন রোগীর খাবার পেয়ে থাকেন বাকি রোগীদের জন্য খাবার বরাদ্দ না থাকায় অন্যান্য বাকি রোগীদের খাবারের জন্য হিমশিম খেতে হয়। আর এম ও ডাঃ মোঃ মোজাহিদ হাসান বলেন নিয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যা উত্তীর্ণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমি জোর দাবি জানাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফয়সাল নাহিদ পবিত্র বলেন জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে এত সংখ্যক সেবা প্রত্যাশীদের চিকিৎসা দেয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ৫০ জন রোগীর বরাদ্দকৃত খাবার থেকে ৮০ জন ভর্তির রোগীর খাবার ম্যানেজ করতে হয়। তিনি বলেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উত্তীর্ণ করলে রোগী থাকার বেড, রোগীর খাবার কোন সংকট হবে না বলে টাইমস নিউজ কে জানান।