নওগাঁ জেলা পুলিশ কর্তৃক ডাকাতির লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ ৩ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনটি জানিয়েছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার। প্রেস ব্রিফিয়ে উপস্হিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) গাজিপুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহসানুর রহমান ভূঁইয়া, নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী সহ সাংবাদিকবৃন্দ। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬ টায় নওগাঁ জেলার আত্রাই থানাধীন আহসানগঞ্জ হাটের পার্শ্বে ৫ জনের একটি ডাকাত দল স্বর্ণ ব্যবসায়ী নান্টু কুমার প্রামানিক কে পথরোধের মাধ্যমে মারপিট করে তার কাছে থাকা স্বর্ণ এবং নগদ অর্থসহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এ সংক্রান্ত আত্রাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু হলে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ারের নির্দেশক্রমে নওগাঁ জেলা পুলিশের একাধিক টিম ডাকাতির রহস্য উৎঘাটন, ডাকাতদের চিহ্নিত করণ ও গ্রেফতারে কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী নান্টু ও তার ছোট ভাই চোরাইকৃত স্বর্ণ ক্রয়ের সাথে জড়িত। এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত রেজাউল তার কাছে পূর্বে একাধিকবার ডাকাতিকৃত স্বর্ণ কমদামে বিক্রয় করেছে কিন্তু রেজাউল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে থাকাকালীন নান্টু তার কোন খোঁজ-খবর নেয়নি এবং তার পাওনা টাকাও পরিশোধ করেনি। ফলে রেজাউল অন্য ডাকাতদের সাথে যোগাযোগ করে নান্টুর স্বর্ণ এবং টাকা পয়সা ডাকাতি করে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নওগাঁ সদরের বজরুক আতিয়া এলাকার মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে ডাকাত আজাদুল দেওয়ান (৪৭), জেলার সদর থানাধীন শেরপুর এলাকার মৃত আসাদুল ইসলামের ছেলে ডাকাত জাহিদুল ইসলাম (৪২), আত্রাই থানার মালিপুকুর এলাকার মৃত তালেব মন্ডলের ছেলে ডাকাত রেজাউল মন্ডল (৩০) সহ আরও ২ জন ডাকাত ২টি মোটরসাইকেল যোগে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নান্টুর মোটরসাইকেল অনুসরণ করতে করতে আত্রাই থানার আহসানগঞ্জ হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে মালাধর বড় ব্রিজের নিকট ফাঁকা স্থানে পৌছে ডাকাতদল পিছন থেকে তার মাথায় আঘাত করে এবং তার ব্যাগে থাকা স্বর্ণ, রুপা এবং নগদ টাকা মিলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। পুলিশের একাধিক টিম গত রাতে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানা, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর ও আত্রাই থানা এলাকা থেকে উল্লেখিত ৩ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে। আসামীদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতিকৃত নগদ ৪০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল, ডাকাতির টাকায় ক্রয়কৃত ১টি নতুন মোটরসাইকেল এবং ডাকাতিকৃত ১টি স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য যে, আসামী আজাদুলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি সহ ১৯ টি মামলা এবং আসামী রেজাউলের বিরুদ্ধে ৩টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ পূর্বক ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান জেলা পুলিশ সুপার।