যখন রাষ্ট্র প্রশ্নকে সন্দেহের চোখে দেখে, আর সত্য উচ্চারণ হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ সাহস—ঠিক সেই সময়ে দাউদকান্দিতে ঘটলো এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কোনো ব্যানার ছিল না, ছিল না স্লোগান কিংবা মাইক। তবু যা ঘটেছে, তা ছিল স্পষ্টভাবে একটি বার্তা—নীরব, কিন্তু অগ্রাহ্য করার মতো নয়।
দাউদকান্দি ডিজিটাল প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিক আনিসুর রহমান খানের বাড়িতে অনুষ্ঠিত প্রীতিভোজ ও হাঁস পার্টি ছিল বাহ্যত একটি সামাজিক মিলনমেলা। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে এক প্রতীকী অবস্থান—যেখানে নীরব উপস্থিতিই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা।
জাতীয় ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা একই টেবিলে বসেছেন। তাঁরা কেউ প্রেস বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিকার নন, বরং মাঠে কাজ করা সেই মানুষ—যাঁরা ক্ষমতার আরামের গল্প নয়, বাস্তবের অস্বস্তিকর সত্য তুলে ধরেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ক্রমেই এক চাপের নাম। মামলা, হয়রানি, ফোনকলের অদৃশ্য সতর্কবার্তা, নজরদারির শঙ্কা—সব মিলিয়ে প্রশ্ন করাই যেন অপরাধে পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় দাউদকান্দির এই আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে ভাঙনের নয়, বরং ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।
এই মিলনমেলার ভেতর দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে কয়েকটি মৌলিক সত্য— সাংবাদিক সমাজ ভাঙলে সত্য ভেঙে পড়ে, কলম থেমে গেলে রাষ্ট্র অন্ধকারে হাঁটে, প্রশ্নহীন সমাজ মানেই গণতন্ত্রের মৃত্যু।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
উপস্থিত ছিলেন— এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল (বঙ্গ নিউজ বিডি২৪ডটকম / বাংলাদেশের আলো),
শাহাদাত হোসেন তালুকদার (বাংলাদেশের আলো),
ইমরান মাসুদ (বিজনেস বাংলাদেশ), আহনাফ তিহামী (কালের কণ্ঠ), আনিসুর রহমান খান (আজকের পত্রিকা), রাসেল সুমন (ডেইলি বাংলাদেশ আপডেট), ইসমাঈল হোসেন (দৈনিক জনতা), জসিম মোল্লা (দৈনিক সংবাদ দিগন্ত),
আসাদুজ্জামান সাগর (বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন)।
এই উপস্থিতি যেন একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—সরকার বদলাতে পারে, ক্ষমতার রঙ পাল্টাতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব বদলায় না। ভয় দেখিয়ে প্রশ্ন থামানো গেলে সত্য লেখা হয়তো বন্ধ হয়ে যেত বহু আগেই।
আজ যখন অনেক সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আদালত, থানা আর অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন—ঠিক তখন দাউদকান্দির এই আয়োজন ছিল একটি নৈতিক ঘোষণাপত্র।
এটি ছিল ক্ষমতার উদ্দেশ্যে নীরব উচ্চারণ— আমরা দেখছি। আমরা লিখছি। আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না।
দাউদকান্দির এই সমাবেশ আবারও প্রমাণ করে— পত্রিকা বন্ধ হতে পারে, চ্যানেল বন্ধ হতে পারে,
কণ্ঠ রুদ্ধ করা যেতে পারে— কিন্তু সাংবাদিকতার আত্মা কখনো বন্দি করা যায় না। কলম এখনো দাঁড়িয়ে আছে— আর সেই দাঁড়িয়ে থাকাই ক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় অস্বস্তি।