জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে দোল পূর্ণিমার উৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে প্রায় ৫১৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার মেলা। স্থানীয়দের মতে, এটি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় পুরো এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে। এই মেলার সূচনা বহু বছর আগে গোপীনাথপুরের মন্দিরকে কেন্দ্র করে দোল উৎসবের সঙ্গে মিলিয়ে হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ মেলা এবং ঘোড়ার হাটে পরিণত হয়েছে।
মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়ার হাট। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নানা জাতের ঘোড়া নিয়ে মেলাতে আসেন। মেলার মাঠজুড়ে ঘোড়ার গতি, শক্তি ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার দৃশ্য চোখে পড়ে। দরদামের পর অনেকেই পছন্দের ঘোড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঘোড়ার পাশাপাশি গরু ও মহিষেরও ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
গাইবান্ধা থেকে ঘোড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী হবিবর রহমান বলেন, “প্রতি বছরই এই মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসি। এখানে অনেক ক্রেতা আসে, তাই ভালো দাম পাওয়া যায়।”
জামালপুর জেলার আল আমিন প্রথমবারের মতো মেলায় এসে বলেন, “এত বড় ঘোড়ার হাট আগে দেখিনি। শুনেছিলাম, এবার নিজ চোখে দেখলাম।”
দিনাজপুর জেলার জাফর সরদার জানান, “মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি একটি ঐতিহ্য। এখানে এসে অনেক পুরোনো পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়।”
মেলার প্রাঙ্গণজুড়ে রয়েছে নানাধরণের দোকানপাট। শীতলপাটি, কাঠের আসবাবপত্র, বেত-বাঁশের তৈরি জিনিস, মাটির তৈরি পণ্য, লোহা-লক্কড়ের সরঞ্জাম এবং কৃষিকাজের উপকরণ পাওয়া যায় এখানে। এছাড়া রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, যেখানে জিলাপি, পিঠা, মিষ্টি, চটপটি, ফুচকা, হালিমসহ নানা মুখরোচক খাবারের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু ও কিশোরদের জন্য নাগরদোলা ও বিনোদনের অন্যান্য ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন রেজা জানান, “ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত চলবে। মেলাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, শতাব্দীপ্রাচীন এই ঘোড়ার মেলা শুধু বাণিজ্যিক নয়, এটি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে গোপীনাথপুর।