মসজিদে জুম্মার নামাজের খুৎবায় সুদ-ঘুষের আলোচনার জের ধরে ইমামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় দুই দিন যাবৎ উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (১ মার্চ) সকালে চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর ইউনিয়নের বানিয়াচং গ্রামের খন্দকার বাড়ির জামে মসজিদের হুজরা খানায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার জের ধরে ইমাম এর সমর্থকরা কয়েকটি ঘর ভাঙচুর করে। আহত ইমাম মো. হাসান মুরাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার দড়িকান্দি এলাকাবার বাসিন্দা। সে চান্দিনার বানিয়াচং খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম। গত ৪-৫ মাস ধরে সে এখানে কর্মরত আছেন। হামলাকারীরা হলো- চান্দিনার বাণিয়াচং গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে মো. নূরুল ইসলাম ও জাকির হোসেন। নূরুল ইসলাম ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। জাকির হোসেন খোববাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
জানা যায়, ওই মসজিদের ইমাম একজন ইসলামী বক্তা। তিনি মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি বিভিন্ন মাহফিলে বয়ান করেন। প্রতি শুক্রবার খুৎবায় সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে এবং ইমান ও সুন্নী আকিদা প্রতিষ্ঠায় বয়ান করেন। এসব বয়ানে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ওই মসজিদ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এলাকার এক ইউপি মেম্বার ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু স্থানীয় মুসল্লীরা তার বয়ানে সন্তুষ্ট এবং তাকে মসজিদ থেকে বিতারিত না করার পক্ষে অবস্থান নেন। শনিবার দুপুরে ইমাম হাসান মুরাদকে মসজিদ থেকে বের করতে উদ্যত হয়। এসময় ইমাম এক মাসের সময় চাইলে তাকে সময় না দিয়ে মসজিদের মাইকের স্ট্যান্ড দিয়ে মারধর করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। 
এদিকে এ ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যায় ইমামের উপর হামলাকারী দুই শিক্ষক ও ইউপি মেম্বারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত ইমাম মো. হাসান মুরাদ জানান, আমি সুন্নী আকিদা বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বলি। আর এটাকে কোন ভাবেই মানতে পারছে না হাতে গোনা কয়েকজন। এলাকার সিংহভাগ মুসল্লী আমার পক্ষে থাকলেও হাতে গোনা কয়েকজন আমার বক্তব্যসহ আমাকে সহ্য করতে পারছে না। বিশেষ করে ২জন ইউপি মেম্বার, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম মাস্টার, তার ভাই জাকিরসহ আরও কয়েকজন। আমি তাদেরকে অনুরোধ করে বলেছি, আমি রমজান মাস থেকে নিজেই চলে যাবো। কিন্তু তারা আমাকে কোন সুযোগ না দিয়ে আমাকে মারধর করে আমার কক্ষে থাকা নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনার অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম মাস্টার জানান- ওই ইমামকে এলাকার বেশ কিছু মানুষ ভালভাবে গ্রহণ করছে না। মুসল্লীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শনিবার তাকে আমরা বুঝিয়ে বিদায় করতে গেলে সে আমার চোখে আঘাত করে। চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হুদা জানান, ইমামকে মারধরের ঘটনার পর এলাকাবাসী কয়েকজনের বাড়িতে হামলা করেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এলাকার প্রতিনিধিরা সোমবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করার কথা রয়েছে।