দীর্ঘ চার বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি ২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে আধুনিক ১০ শয্যার এই ইউনিটটি অচল পড়ে রয়েছে। ফলে গুরুতর রোগীরা জরুরি ও উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি আইসিইউ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও দক্ষ সহায়ক কর্মী প্রয়োজন। বিশেষ করে অ্যানেস্থেসিয়া ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ছাড়া আইসিইউ চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় এই জনবল না থাকায় উদ্বোধনের পরও ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আইসিইউ ইউনিটটি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের চতুর্থ তলায় স্থাপন করা হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স ও টেকনোলজিস্টের অভাবে এখনো চালুর মুখ দেখেনি ইউনিটটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জনবল চেয়ে চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে দীর্ঘ সময় ব্যবহার না হওয়ায় আইসিইউতে স্থাপিত ভেন্টিলেটর, রোগী পর্যবেক্ষণ মনিটর, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ও সাকশন মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুতর রোগী হলে বাধ্য হয়ে তাদের বগুড়া বা রাজশাহীর বড় হাসপাতালে নিতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তি। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়েই রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
রোগীর স্বজন আব্বাস আলী বলেন, “জেলায় আইসিইউ থাকলেও সেটি চালু না থাকায় আমাদের বাইরে যেতে হয়। জরুরি সময়ে এটি বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, “আইসিইউ চালুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এটি চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে আইসিইউ চালু করা হোক, যাতে জয়পুরহাটের মানুষ নিজ জেলাতেই জরুরি ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।