কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বোর্ডের আওতাভুক্ত ছয়টি জেলার মধ্যে মেয়েরা এবারও ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করেছে। মোট ২ হাজার ৭০৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ৯৯ হাজার ৫৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় ১৯২টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে পাস করেছে ৪৮ হাজার ৬শ ৫৭ জন। ছেলেদের মধ্যে পাসের হার ৪২ দশমিক ৭০ শতাংশ, আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
কুমিল্লা বোর্ডের আওতাধীন জেলা ছয়টি— কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এগুলো মিলিয়ে মোট ৪৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
সকাল ১০টার দিকে বোর্ড চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম।
তিনি জানান, “গত বছরের তুলনায় এবার ফল কিছুটা কমেছে। তবে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য আনন্দের খবর। ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে ফল কিছুটা দুর্বল, সেটি উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে।”
কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫টি কলেজ শতভাগ পাস করেছে, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
অন্যদিকে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি— যেগুলোকে বোর্ড বিশেষ পর্যবেক্ষণের আওতায় এনেছে।
২০২৪ সালে কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৭১.১৫ শতাংশ। যা এই বছর ফল প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্যোগকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, প্রশ্নপত্রের কঠোরতা এবং কিছু কেন্দ্র বাতিল হওয়ায় এই প্রভাব পড়েছে।
ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম বলেন— “এইচএসসি পরীক্ষা কেবল শিক্ষাগত অর্জন নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশকও। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ মনোযোগ দেয়। মেয়েদের সাফল্য প্রশংসনীয়, তবে ছেলেদেরও একইভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীরা মোবাইল অপারেটরের নির্ধারিত এসএমএস সার্ভিসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে।
সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে (সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) গড় পাশের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এ হিসেবে কুমিল্লা বোর্ডের অবস্থান নিচের দিকে, তবে বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন— “পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা ও প্রশ্নের মান উন্নয়নই এর কারণ।”