1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

কুমিল্লায় নির্বাচনী জনসভায় বহুজেলার পুলিশ: খাগড়াছড়ি থেকেই ২২০ সদস্য মোতায়েন

টাইমস প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৯৪ বার পঠিত

কুমিল্লায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে নেওয়া নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের পাশাপাশি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে অন্তত ২২০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়—যা সাধারণ রাজনৈতিক জনসভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়। টাইমস নিউজের হাতে আসা তথ্যে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনে কুমিল্লা জেলার বাইরে একাধিক জেলা এবং জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৭ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে ১ জন, চাঁদপুর জেলা থেকে ১ জন, কুমিল্লার ডিএসবির ১ জন, সদর সার্কেলের ১ জন, মুরাদনগর সার্কেলের ১ জন এবং কুমিল্লা পুলিশ অফিসের ২ জন ছিলেন। এছাড়া সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে দেবিদ্বার, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও দাউদকান্দি সার্কেল অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা থেকে আনা হয় ১ জন ইন্সপেক্টর, ৬ জন এসআই, ৬ জন এএসআই, ৯ জন নায়েক ও ১৯৮ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ২২০ জন পুলিশ সদস্য। এছাড়া নোয়াখালী থেকে ২ জন এসআই, ২ জন এএসআই ও ১০ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ১৪ জন, চাঁদপুর থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার, একজন ইন্সপেক্টর, ৪ জন এসআই, ১ জন এএসআই ও ১৩ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ২০ জন, লক্ষ্মীপুর থেকে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে ১ জন ইন্সপেক্টর, ৪ জন এসআই, ১ জন এএসআই ও ১২ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে ট্রাফিক বিভাগ থেকে টিআই বা ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৭ জন, এসআই বা সাজেন্ট ১১ জন, এটিএসআই ১২ জন, নায়েক ৩ জন ও কনস্টেবল ২২ জনসহ অন্তত ৫৫ জন, ডিএসবি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ২ জন ইন্সপেক্টর, ৬ জন এসআই, ২ জন এএসআই ও ১৩ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ২৪ জন, পুলিশ লাইন্স থেকে একজন ইন্সপেক্টরসহ ৭ জন এসআই, ৭ জন এএসআই, ৫ জন নায়েক ও ১০৯ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ১২৯ জন এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে ৯ জন এসআই, ৬ জন এএসআই ও ১৫ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ৩০ জন সদস্য জনসভাস্থলে দায়িত্বে ছিলেন।

এছাড়া কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা জনসভায় যোগ দেন। কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে একজন ইন্সপেক্টর, ২ জন এসআই, ১ জন এএসআই ও ৪ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ৮ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানা থেকে ২৭ জন, চৌদ্দগ্রাম থেকে ৩৫ জন, চান্দিনা থেকে ২ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন এসআই, ২ জন এএসআই ও ১০ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ১৫ জন, বুড়িচং থেকে ২ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন এসআই, ১ জন এএসআই ও ৪ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ৮ জন, ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ৩ জন এসআই, ১ জন এএসআই ও ৫ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ৯ জন, বরুড়া থেকে ১ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন এসআই, ২ জন এএসআই ও ৫ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ৯ জন, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ থানা থেকে একজন করে এসআই, ২ জন করে এএসআই ও ৬ জন করে কনস্টেবলসহ অন্তত ৯ জন করে, লাঙ্গলকোট থেকে ১ জন ইন্সপেক্টর, ২ জন এসআই, ২ জন এএসআই ও ৬ জন কনস্টেবলসহ অন্তত ১১ জন, দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে ৩৪ জন, তিতাস থেকে ৮ জন, হোমনা থেকে ৭ জন, মেঘনা থেকে ৯ জন, দেবিদ্বার থেকে ১০ জন, মুরাদনগর থেকে ৭ জন, বাঙ্গুরা বাজার থানা থেকে ১০ জন এবং লালমাই থানা থেকে ৮ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র এবং সার্কেল অফিসারদের অধীনস্থ সদস্যরাও জনসভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে সমাবেশে মোট ৭৮৭ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাব ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত ছিলেন।

সাধারণত বড় রাজনৈতিক সমাবেশে সংশ্লিষ্ট জেলা ও পার্শ্ববর্তী এক-দুটি জেলা থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, এ জনসভায় পাহাড়ি ও দূরবর্তী জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক সদস্য আনার বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, “যদি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে পাহাড়ি ও দূরবর্তী জেলা থেকে এত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বাড়ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা প্রয়োজন—এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। তবে একটি দলের জনসভায় এত বিপুল ও বহুজেলা পুলিশ মোতায়েন ভবিষ্যতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

খাগড়াছড়িসহ দূরবর্তী জেলা থেকে পুলিশ মোতায়েনের কারণ জানতে অতিরিক্ত আইজিপি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর