জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ২৮ বিঘা আয়তনের নওটিকা ভাদার পুকুরে মাছ তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের নওটিকা পুকুরপাড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে নওটিকা গ্রামের মুন্না (২৬), পলাশ (৫০), শহীদ (২৮), জিয়াউল ইসলাম (৪৫), সুজাউল ইসলাম (৫৫), সিহাব (১৭) ও মোরাদ হোসেন (৪৫) রয়েছেন। অপর পক্ষের মাছ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হাসান আলী (৫০), কামরুল ইসলাম (৩২), নূরুল আলম মণ্ডল (৩৫), আবুল কাশেম (৫৫) ও তছলিম (৩২)সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মাছ চাষি হাসান আলীর অভিযোগ, গত দুই দিন ধরে পুকুর থেকে মাছ তোলা হচ্ছিল। এ সময় নওটিকা গ্রামের মুরাদ ও আবদুল আলীমের নেতৃত্বে তাঁর কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাছ বহনকারী পিকআপে হামলা চালিয়ে চাকা ক্ষতিগ্রস্ত ও কাচ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর জামাইসহ সঙ্গে থাকা লোকজনের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আলীম বলেন, পুকুরের মালিক সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি এক বছরের জন্য পুকুরটি লিজ নিয়েছেন এবং সেখানে মাছও ছেড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অপর পক্ষ ক্ষমতার জোরে একই পুকুরে মাছ ছেড়েছে।
আবদুল আলীম বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে অপর পক্ষ মাছ ধরলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। তখন পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে অপর পক্ষ প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে মাছ ধরতে আসে। এ সময় গ্রামের ব্রিজ ভাঙা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
আহতদের প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।