কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি) আসনে বিএনপির রাজনীতি, নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপির বড় ছেলের স্ত্রী নাইমা খন্দকার। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি কর্মীদের কষ্টার্জিত অর্থ, চাঁদাবাজি, অর্থের লেনদেন এবং নেতৃত্বের জবাবদিহিতা নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।
নাইমা খন্দকার তার ফেসবুক পোস্টে সতর্ক করে লিখেছেন, ‘হুঁশিয়ার! এবার জনগণ জবাব চাইবে।’ কর্মীর কষ্টের টাকা নিয়ে কেউ নেতা সাজবেন, সেই দিন শেষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন খাত থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তার হিসাব প্রস্তুত রাখতে হবে। তার ভাষায়, আগে কর্মীর পাওনা টাকা ফেরত দিতে হবে, ঋণ শোধ করতে হবে, এরপর নিজেকে নেতা দাবি করতে হবে।
চাঁদাবাজি, লুটপাট ও অর্থের কারবারের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করে নাইমা খন্দকার লিখেছেন, জনগণ এবার শুধু কথা শুনবে না, হিসাব চাইবে, জবাব চাইবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় কোন নেতা কোথা থেকে এবং কোন খাতে কত টাকা চাঁদা নিয়েছেন, তার স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘কেউ কোনো ধরনের চাঁদা দেবেন না।’ কেউ চাঁদা নিতে এলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে নিরাপদে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের বক্তব্যে নাইমা খন্দকার আরও বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা নয় এবং জনগণ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। চাঁদাবাজি, কর্মীর অর্থ আত্মসাৎ কিংবা মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘হিসাব দিতে হবে—প্রতিটি টাকার হিসাব দিতে হবে।’ জনগণ এখন সচেতন উল্লেখ করে তিনি ধান্দাবাজি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
নাইমা খন্দকারের এই ফেসবুক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি) আসনের বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে।