লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তে গরু চড়ানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিন বিএসএফ সদস্য দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে ভারতে ফিরে যান। পরে সেগুলো উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে সীমান্ত পিলার ৯০৭/২-এসের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শূন্য লাইনে গরু চড়ানোকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের তিন সদস্যের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা বিজিবিকে না জানিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন বলে বিজিবি জানায়।
বিষয়টি স্থানীয়রা বিজিবিকে জানালে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএসএফের তিন সদস্য দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে ভারতের দিকে চলে যান।
খবর পেয়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে ফেলে যাওয়া দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করে।
ঘটনার পর ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার কারণ জানতে চান। পরে এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সীমান্ত পিলার ৯০৭/৪-এসের কাছে দুই বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়া বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জবাবে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
বৈঠক শেষে উদ্ধার করা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটার আশ্বাস দিয়েছেন।”