জয়পুরহাট সদর উপজেলার জিতারপুর এলাকার একটি আখখেত থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে কঙ্কালটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি গত সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ভ্যানচালক ফরিদ হোসেনের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিতারপুর এলাকার একটি আখখেতে কঙ্কালের মতো কিছু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। শরীরের অধিকাংশ অংশ পচে যাওয়ায় সেখানে শুধু কঙ্কাল পড়ে ছিল। তবে পাশে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে পরিবারের সদস্যরা এটি ফরিদ হোসেনের বলে দাবি করেন।
ফরিদ হোসেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হোপীরহাট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালাতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২০ আগস্ট সকালে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের পর তাঁর ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি সদর উপজেলার পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার জিতারপুরের আখখেত থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে তাঁরা কঙ্কালটি ফরিদের বলে দাবি করেন। পরিবারের ধারণা, নিখোঁজের পর ফরিদকে হত্যা করে মরদেহটি ওই আখখেতে ফেলে রাখা হতে পারে।
পুলিশের ধারণা, মরদেহে অ্যাসিডজাতীয় কোনো পদার্থ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। এতে দ্রুত শরীরের মাংস পচে গিয়ে কঙ্কাল বের হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু শাহীন কাদির বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে জিতারপুর এলাকার একটি আখখেত থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কঙ্কালটি পুরুষ না নারী, তা প্রাথমিকভাবে বোঝার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল ইসলাম বলেন, গত ২০ আগস্ট সকালে হোপীরহাট গ্রামের ফরিদ হোসেন ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে তাঁর ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিতারপুর থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে ফরিদের পরিবার সেটি তাঁর বলে দাবি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।