কুমিল্লায় কোনো সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন হতে দেওয়া হবে না। কেউ এ ধরনের দুঃসাহস করার চেষ্টা করলে তাকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কবি কাজী নজরুল ইন্সটিটিউটের হলরুমে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ইউসুফ মোল্লা টিপু।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন আমরা গত ১৭ বছর দেখেছি। কীভাবে সাংবাদিকদের কলমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, কীভাবে কণ্ঠকে রোধ করা হয়েছে—তা আমরা দেখেছি। প্রতিবাদ করার মতো দুঃসাহসিকতা খুব কম সাংবাদিকের মধ্যে ছিল। যারা প্রতিরোধ করেছেন, প্রতিবাদ করেছেন, তারাই সত্যিকার সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সেইসব দুঃসাহসী সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানাই।”
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন, আমি কুমিল্লাকে উদাহরণ হিসেবে নিতে চাই। গত ১৭-১৮ বছর যখন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন হয়েছে, এমন কোনো নির্বাচন নেই, যেটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়নি। আর সবশেষ যে নির্বাচনটি হয়েছে, কেউ বলতে পারবেন না সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে।”
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা শাখাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার এই সরকারের আমলে যতদিন তিনি এই দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, তার কর্মী হিসেবে, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমি আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে, একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে—কুমিল্লাতে কখনোই কোনো দিন সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন হবে না, ইনশাআল্লাহ। যদি কেউ এ ধরনের দুঃসাহস করার চেষ্টা করে, আপনারা আমাকে অবহিত করবেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করব এবং তাকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করব।”
সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে অপেশাদার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে, কিন্তু সাংবাদিকতার ধারেকাছেও নাই—আপনাদেরকে কিন্তু এগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা জানি, কারা প্রকৃত সাংবাদিক আর কারা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে চলে।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে যখন তারা যায় এবং মানসিক নির্যাতন করে, তখন তারা বিরক্ত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত তারা সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নয়ই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ফেসবুক খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় একটি আইডি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে মানসিক নির্যাতন করেছে—সাংবাদিকতায় যার ন্যূনতম ধারণা নাই, সাংবাদিকের ধারেকাছেও যে নাই। অথচ সে যে সাধারণ মানুষকে মানসিক নির্যাতন করেছে, সেটার বিচার কিন্তু আপনাদেরই কাছে দিয়ে গেলাম। সেটিও কিন্তু আপনাদেরকে দেখতে হবে।”
যানজট নিরসন প্রসঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ থেকে ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আগামীকাল রবিবার (৯ আগস্ট) থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন চলবে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলে, নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবো।”
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পুনরায় নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।
সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যের পর জেলা কমিটির সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।
এ সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া জেলা কমিটির ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতে অংশ নেন। এরপর নবগঠিত জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা শুরু হয়। সবশেষে সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।