জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের ডিংড়াপাড়া মোড় থেকে বাইপাস সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের (গড়িয়া) ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) লিখিত নোটিশের প্রায় এক মাস পার হলেও সড়ক থেকে নিম্নমানের ইট অপসারণ করা হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় পুনট ইউনিয়নের ডিংড়াপাড়া মোড় থেকে বাঁশের ব্রিজ পর্যন্ত এক হাজার মিটার সড়কে ইট বিছানো এবং ১০০ মিটার প্যারাসাইডিং নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কাজটি পায় ফারিয়া কনস্ট্রাকশন। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে কাজ না করে বগুড়ার শিবগঞ্জের সুমন মিয়ার কাছে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি হস্তান্তর করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের গড়িয়া ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারপক্ষের লোকজন ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলা-মারধরের হুমকি দেয়। পরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঠিকাদারকে লিখিতভাবে নিম্নমানের ইট অপসারণ করে দরপত্রের শর্ত (শিডিউল) অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিল পরিশোধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নির্দেশ জারির প্রায় এক মাস পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
পুনট হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র বলেন, “সড়কে এমন নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, যা এখনই ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে কাজ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।”
ডিংড়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম বলেন, “গড়িয়া ইট পানিতে ভিজিয়ে দুই নম্বর ইটের মতো দেখিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তি উপেক্ষা করেই কাজ শেষ করা হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও পিআইও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। চিঠি দেওয়ার এক মাস পরও নিম্নমানের ইট অপসারণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”
ফারিয়া কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী সোহাগ হোসাইন বলেন, “সাব-ঠিকাদার সুমন মিয়াকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে আমি বিলে স্বাক্ষর করব না।”
অন্যদিকে সাব-ঠিকাদার সুমন মিয়া বলেন, “বর্ষার কারণে ইট অপসারণে বিলম্ব হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে নিম্নমানের ইট সরিয়ে শিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হবে।” তবে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, “কাজের বিল এখনো দেওয়া হয়নি। নিম্নমানের ইট অপসারণ করে আমাদের উপস্থিতিতে শিডিউল অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “শিডিউল অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করতে পিআইওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”