কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ যুবলীগের এক নেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ১১০ কেজি গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নির্দেশনায় বুধবার (১৫ জুলাই) ও বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশের বিভিন্ন টিম।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এসআই আবুল কাওসারের নেতৃত্বে একটি দল মেঘনা-গোমতী সেতুর দাউদকান্দি প্রান্তে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে দায়িত্ব পালনকালে একটি সন্দেহভাজন পিকআপ ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পিকআপের ভেতরে থাকা ৩০ বস্তা মুরগির খাদ্যের নিচে লুকিয়ে রাখা ১০৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় উপপরিদর্শক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত আরেক অভিযানে একই এলাকায় ঢাকাগামী ‘আল-বারাকাহ’ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ মো. মামুন আহম্মেদ (২২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শ্রীয়াং গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য ও সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আবু হানিফ সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দাউদকান্দি থানা যুবলীগের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সহকারী উপপরিদর্শক প্রিয়ব্রতের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ডাকাতি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. হোসেন (২৭) গ্রেফতার হন। একই সময়ে উপপরিদর্শক মিনহাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরির মামলার আসামি শেখ ফরিদ মিয়া (৩১) ও শরিফ (৩০)-কে আটক করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।