1. admin@timesnews24.live : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে মারতি গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি, কিছুই জানেন না ওসি

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৭৯ বার পঠিত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে কোটবাড়ি, আলেখারচর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলাচলরত মারতি গাড়ি থেকে ‘জিপি’ ও লাইন ব্যবস্থাপনার নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চালকদের দাবি, প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার উত্তর অংশে রশিদ এবং দক্ষিণ অংশে জসিম নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ সংগ্রহ করছেন। তবে আদায়কৃত অর্থ কোথায় যায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এ টাকা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক অভিযোগ করেন, নিয়মিত চাঁদা না দিলে গাড়ি চালাতে তাদের বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়। তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। স্ট্যান্ডে গাড়ি চালাতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতেই হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রশিদ অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, “গাড়িগুলোর চলাচল সহজ করতে লাইনম্যান হিসেবে কাজ করি। এজন্য প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা নেয়।” বর্তমানে এ রুটে ২০ থেকে ২২টি মারতি গাড়ি চলাচল করে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এই অর্থ আদায়ের কোনো বৈধতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে চালকদের দাবি, বাস্তবে এ রুটের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত শতাধিক মারতি গাড়ি চলাচল করে। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে। যা মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। তাদের আরও অভিযোগ, রশিদ ও জসিম লাইনম্যান হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করেন না, তারা সুবিধাজনক সময় দিনে দুই দফা এসে টাকা সংগ্রহ করে চলে যান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে কোটবাড়ি, আলেখারচর ও ক্যান্টনমেন্ট সড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ মারতি গাড়িই ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব গাড়ির অনেক চালকের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো ও লক্করঝক্কর অবস্থার অনেক গাড়ির বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা। কোনো কোনো গাড়িতে হেডলাইট নেই, আবার অনেক গাড়ির ব্যাকলাইট ও সিগন্যাল বাতি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এমনকি কিছু গাড়ির বডির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলো নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিটনেস সনদ ছাড়াই কীভাবে এসব গাড়ি সড়কে চলাচল করছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন”

এসময় সাংবাদিকের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, অভিযোগকারীদের অভিযোগ দিতে বলা সাংবাদিকদের দায়িত্ব কি না এবং চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি অবগত কিনা। জবাবে ওসি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”

আর ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডেইলি টাইমস নিউজকে বলেন, “এগুলো মহাসড়কে নিষিদ্ধ। তবে আমরা সড়ক পরিবহন আইনে নিয়মিত মামলা দিচ্ছি।”

এদিকে, স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও প্রশাসনের নজরে বিষয়টি না আসার কারণ কী? চাঁদা আদায়ের অভিযোগের পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জসিমের বক্তব্য পেতে একাধীকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর