মায়ের দীর্ঘদিনের একটি শখ পূরণ করতে পোল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেই হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামে গেলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নন্দিরচর গ্রামের সন্তান ও পোল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী ওয়াসিম আকরাম মুন্সি। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নন্দিরচর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম মুন্সি প্রায় ২০ বছর ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। এর আগে কয়েকবার ছুটিতে দেশে এলেও এবার তিনি মায়ের বহুদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেন।
দেশে পৌঁছে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে মাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন ওয়াসিম। গ্রামের নির্ধারিত স্থানে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে তা এক নজর দেখতে ভিড় করেন শত শত উৎসুক মানুষ। মায়ের মুখে আনন্দের হাসি এবং সন্তানের এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রকাশ উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, মায়ের প্রতি ওয়াসিমের এমন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের ভাষ্য, অর্থ-সম্পদের চেয়ে মা–বাবার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর ওয়াসিম সেই মূল্যবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
ওয়াসিম আকরাম মুন্সি পেশায় একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বর্তমানে পোল্যান্ডে একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। সেখানে তাঁর ‘মুন্সি কাবাব’ নামে প্রায় ১০টি রেস্টুরেন্ট শাখা রয়েছে। তাঁর অপর তিন ভাইও পোল্যান্ডে বসবাস করেন।
এ বিষয়ে ওয়াসিম আকরাম মুন্সি বলেন, “মায়ের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল একদিন হেলিকপ্টারে চড়বেন। আল্লাহর রহমতে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। মা–বাবার হাসিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
ওয়াসিমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।