ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুঠি চৌমুহনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বসছে সাপ্তাহিক মোটরসাইকেলের হাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারটিতে বিক্রির জন্য আনা মোটরসাইকেলের প্রায় ৮০ শতাংশই অবৈধ বা সন্দেহজনক উৎসের। অধিকাংশ মোটরসাইকেলের বৈধ শোরুম কাগজ, রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা হস্তান্তরের কাগজপত্র কিংবা প্রয়োজনীয় আইনগত দলিলপত্র থাকে না। এরপরও প্রকাশ্যে এসব মোটরসাইকেলের কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে কোনো ধরনের পরিচয় যাচাই বা বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা ছাড়াই শুধু দরদাম ও নগদ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মোটরসাইকেল বিক্রি করা হয়। টাকা পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া হয় মোটরসাইকেলের চাবি। এতে ক্রেতা যেমন বিক্রেতার প্রকৃত পরিচয় জানেন না, তেমনি বিক্রেতাও জানেন না ক্রেতা কে। ফলে চোরাই বা অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সহজেই হাতবদল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বাজারে মোটরসাইকেল প্রবেশ করানোর আগে বিক্রেতাকে নির্ধারিত ফি দিয়ে বাজার কমিটির কাছ থেকে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। পরে মোটরসাইকেল বিক্রি হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই সমান হারে অর্থ আদায় করা হয়। বাজার কমিটির নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতি এক লাখ টাকার লেনদেনে ক্রেতার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকেও ১ হাজার টাকা করে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বিনা রশিদে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারের চেয়েও বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি সপ্তাহে শত শত মোটরসাইকেলের বেচাকেনা হয় এ হাটে। এতে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হলেও সরকারি রাজস্ব আদায়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। বরং বাজার পরিচালনার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ডেইলি টাইমস নিউজকে বলেন, “বাজারটি অবৈধ হওয়ায় গত মে মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যার এটি বন্ধ করে দিয়েছেন।”
তবে তাঁকে জানানো হয়, বাজারটি এখনো প্রতি শনিবার নিয়মিত বসছে এবং প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল কেনাবেচা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এ সময় চোরাচালান পাচারে থানা থেকে অর্থের বিনিময়ে কোন ধরনের টোকেন দেওয়া হয় কি না এবং বাজারে আসা চোরাই বা অবৈধ মোটরসাইকেলের বিষয়ে বাজার কমিটির থেকে কোনো অর্থ আদায় করা হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্তের জন্য থানার ওসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজার পরিচালনাকারীরা একটি আবেদন করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে থানা পুলিশ প্রতিবেদন দেবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত বাজার বন্ধ রয়েছে।”
তবে তাঁকে জানানো হয়, বাস্তবে বাজারটি এখনো নিয়মিত বসছে। জবাবে ইউএনও বলেন, “আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী যদি বাজারটি বন্ধই থাকে, তাহলে প্রতি শনিবার প্রকাশ্যে কীভাবে অবৈধ মোটরসাইকেলের কেনাবেচা চলছে? বাজার পরিচালনার নামে কারা অর্থ আদায় করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।