ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে বিদায় নিলেন কুমিল্লা নাভানা হাসপাতাল (প্রাঃ) লিঃ-এর রিসিপশনিস্ট সুমাইয়া আক্তার। বিদায়বেলায় তাঁর কর্মদক্ষতা, মানবিকতা ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা তাঁকে ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন সংবর্ধনা জানান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা মহানগরীর ঝাউতলায় অবস্থিত হাসপাতালের অফিস কক্ষে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান, পরিচালক, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা, করতালি ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান শ্রীধাম চন্দ্র ভৌমিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল আউয়াল সরকার, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, মো. সোহেল রানা, মো. জহিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আলমগীর হোছাইন, মো. কবির আহমেদ, মাহবুব সরকার সুমনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সুমাইয়া আক্তার তাঁর দায়িত্বশীলতা, বিনয়ী আচরণ ও আন্তরিক সেবার মাধ্যমে রোগী ও স্বজনদের আস্থা অর্জন করেন। তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিক ব্যবহারের জন্য তিনি হাসপাতালের সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন সমানভাবে প্রশংসিত।
হাসপাতালের নিয়মিত সেবাগ্রহীতা সালমা আক্তার বলেন, “সুমাইয়া আক্তারের আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ আমাদের কাছে সবসময় ভরসার জায়গা ছিল। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিতেন।”
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, “সুমাইয়া আক্তার আমাদের একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দক্ষ কর্মী ছিলেন। রোগীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ, ধৈর্য ও আন্তরিকতা আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর অভিজ্ঞতা ও অবদান হাসপাতালের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।”
বিদায়ী অনুভূতি ব্যক্ত করে সুমাইয়া আক্তার বলেন, “মানুষের সেবা করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কী পেলাম বা না পেলাম, তা কখনো ভাবিনি। পুরো চাকরি জীবনে হাসিমুখে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”