কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জুগিরকান্দি গ্রামের প্রবাসী মেহেদী হাসান আশিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল কাদের চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে জুগিরকান্দি গ্রামের শাহ মিজান (৪৫), শাহ জামাল (৪০), কামাল হোসেন (৩৫), মনির হোসেন (৩০), কামাল হোসেন (৪০), গিয়াস উদ্দিন মেম্বার (৪৭), জামাল হোসেন (৪৭), তারেক (৩০), মহোসিন (২৮), মাছুম (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে।
অভিযোগে আবদুল কাদের উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা ও থাই গ্লাসের জানালা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের কয়েক সদস্যকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর ছেলে নাজমুল হাসান বলেন, “আমার ভাই মেহেদী হাসান আশিক প্রবাসে থাকেন। একটি ফেক ফেসবুক আইডি থেকে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করা হয়। আমাদের গ্রামের আবুল কালাম সেই পোস্টটি শেয়ার করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়া হয়েছিল। এর জের ধরে শুক্রবার গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটে।”
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তোফায়েল হোসেন জুয়েল বলেন, “মেহেদী হাসান আশিক আমাদের উপজেলা যুবদলের সদস্য। যারা হামলা করেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত বিচার চাই।”
তবে অভিযুক্ত শাহ মিজান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করার ঘটনায় কামালকে মারতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”