দর্শনার্থীদের সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন কুমিল্লার ঐতিহাসিক ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারে চালু হয়েছে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর মাইগভ ই-টিকিটিং সেবা। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেবাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এখন থেকে দর্শনার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে পেমেন্টের মাধ্যমে অগ্রিম টিকিট ক্রয় করে কিউআর কোড ব্যবহার করে সরাসরি প্রবেশ করা যাবে। ফলে টিকিট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর, মাইগভ টিম লিড (উপসচিব) ফজলুল জাহিদ পাভেল, আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছা. নাহিদ সুলতানা, কাস্টোডিয়ান মো. শাহীন আলমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সাবিনা আলম নিজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রবেশের মাধ্যমে মাইগভ ই-টিকিটিং সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবিনা আলম বলেন, লালবাগ দুর্গ, ষাট গম্বুজ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘর, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, বলধা গার্ডেন এবং রোজ গার্ডেনে সফলভাবে ই-টিকিটিং সেবা চালুর ধারাবাহিকতায় এবার ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারেও এ সেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে দর্শনার্থীরা আরও সহজে ও দ্রুত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে কাগজের ব্যবহার কমবে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা হবে আরও স্বচ্ছ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যেকোনো সময় পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর জানান, ২০২৫ সালের ৩০ জুন মাইগভ ই-টিকিটিং সেবা চালুর পর গত ১১ মাসে পাঁচটি সাইটে ৬ লাখ ৩ হাজার দর্শনার্থী পরিদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে সরকার প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩০ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার কুমিল্লার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ই-টিকিটিং চালুর ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন আরও ৩০টি পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে এ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাইগভ টিম লিড ফজলুল জাহিদ পাভেল বলেন, আধুনিক ও স্বচ্ছ সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে মাইগভ টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, শশীলজ জাদুঘর, পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, তাজহাট জমিদার বাড়ি, শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি, পানাম নগর এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কেও এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারে ই-টিকিটিং চালুর ফলে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমবে, সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি সেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।