নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইউনিয়নের কাটখৈইর বাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল গ্রাম আদালত বিষয়ক আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, প্রশ্নোত্তর পর্ব, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সুবিধা এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন মাহমুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রাম আদালত হলো সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ী বিচার পাওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতের শরণাপন্ন হলে সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হয়। তিনি গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হোসনেআরা স্বপ্না। তিনি গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পেয়ে থাকেন। এ সময় তিনি গ্রাম আদালতের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা সম্পর্কে উপস্থিত জনসাধারণকে অবহিত করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ক্যাম্পেইনে আগত দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় গ্রাম আদালত বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিজয়ী হওয়া ২০ জনের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও খেটে-খাওয়া মানুষ স্বল্প খরচে এবং অল্প সময়ে বিভিন্ন দেওয়ানি ও ক্ষুদ্র ফৌজদারি বিরোধের সমাধান পাচ্ছেন।
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। তবে এর কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হলে জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এ ধরনের আয়োজন গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।