নওগাঁ শহরের ছোট যমুনা নদী সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সাহিদা (২৭) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর প্রায় ১টার দিকে শহরের ছোট যমুনা নদীর ডিগ্রীর মোড় পারঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাহিদা নওগাঁ শহরের সুলতানপুর মহল্লার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহিদার ছেলে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে এবং বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের দাবি, সাহিদা স্বপ্নে দেখেন যে ছোট যমুনা নদীর তীরের লখাইজানি এলাকার একটি মাজারে মানত করলে তার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠবে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি শনিবার বাবার বাড়িতে যান। পরে সোমবার একটি মাটির ঘটি এবং ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে মাজারে গিয়ে মানত করেন।
মানত শেষে তিনি ঘটি নদীতে ভাসিয়ে দেন। এরপর স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নদীর পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড়ে সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পারঘাটের মাঝি শুকুর আলি তাকে নৌকায় পার হওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।
নদীর মাঝামাঝি গিয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে তার একটি হাত পানির ওপর ভেসে উঠলে মাঝি ও সঙ্গে থাকা ছোট বোন তাকে ধরার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং তিনি নদীর পানিতে ডুবে যান।
খবর পেয়ে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার অভিযানে নদীর তলদেশ থেকে সাহিদার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা আব্দুস সালাম বলেন, “সাহিদা যে মাজারে মানত করতে এসেছিল, বিষয়টি পরিবারের কেউ জানত না। নদীতে ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর আমরা জানতে পারি। এখন তার মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।”
নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আমির জানান, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের সময় নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।