কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মিডিয়া সেলের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে কুমিল্লা থেকে বদলি হয়ে গেলেও সাবেক উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এখনো কুমিল্লার ডিএনসি মিডিয়া সেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন এবং এর কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি করছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কুমিল্লা থেকে বদলি হওয়ার পরও ডিএনসির মিডিয়া সেলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং মিডিয়া সেলের একটি অনলাইন গ্রুপে এখনো তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রুপটিতে ডিএনসির পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে অফিসিয়াল তথ্য সরবরাহ করা না হলেও সদস্যরা বিভিন্ন তথ্য বা সংবাদ শেয়ার করলে সেগুলোর ওপর ইমরুল হাসানের নজরদারি থাকে। এতে একজন বদলিকৃত কর্মকর্তার হাতে জেলা পর্যায়ের সরকারি একটি মিডিয়া সেলের প্রশাসনিক বা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগে অনলাইন গ্রুপটির নাম ছিল ‘DNC মিডিয়া সেল, কুমিল্লা’। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গ্রুপটির নাম পরিবর্তন করে ‘DNC মিডিয়া সেল’ করা হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের পরও গ্রুপটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে একজন সাবেক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রশ্ন উঠেছে—কুমিল্লা থেকে বদলি হওয়ার পর কোনো লিখিত আদেশ, দায়িত্ব অর্পণ বা বর্তমান কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে চৌধুরী ইমরুল হাসান এখনো মিডিয়া সেলটির সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না। একই সঙ্গে সরকারি কোনো মিডিয়া সেলের দায়িত্ব বদলি হয়ে যাওয়া সাবেক কর্মকর্তার কাছে বহাল রাখার বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো অনুমোদন বা বিধান রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা ডিএনসির কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও মিডিয়া সেলটির প্রশাসনিক কাঠামো, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি সম্পর্কে জনসমক্ষে সুস্পষ্ট তথ্য নেই।
ফলে বদলির পরও একজন সাবেক কর্মকর্তার মিডিয়া সেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অনলাইন গ্রুপের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, কুমিল্লা মিডিয়া সেলের নাম পরিবর্তন করে অন্য একটি নাম রাখা হবে।
কুমিল্লা ডিএনসির বর্তমান উপপরিচালক বজলুর রহমান বলেন, নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার জন্য বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। তিনি নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তবে প্রশাসনিকভাবে মিডিয়া সেলটির দায়িত্ব কার কাছে এবং বদলি হওয়া কোনো কর্মকর্তা এখনো এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুমোদন পেয়েছেন কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।