সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্তপথে বাংলাদেশে পুশ-ইনের প্রচেষ্টার তথ্য পাওয়ার প্রেক্ষাপটে নওগাঁর পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় দিবা-রাত্রি টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রাত্রিকালীন টহলে বাঁশি, টর্চলাইট, নাইট ভিশন গগলস ও বাইনোকুলারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে পুশ-ইনের সম্ভাব্য স্থান ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, আনসার-ভিডিপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পুশ-ইন, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধে প্রতিপক্ষ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। পুশ-ইন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ জানানো হবে।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক (সিও) সীমান্তবর্তী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অপরিচিত ব্যক্তির চলাচল, সন্দেহজনক কার্যক্রম বা পুশ-ইনের সম্ভাব্য তথ্য নজরে এলে তা দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।