কুমিল্লার ব্যস্ততম পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নোয়াখালী রোডে যাত্রীদের জন্য নির্মিত সরকারি ছাউনি দখল করে ‘নিউ ভাই ভাই হোটেল’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে হোটেল ব্যবসা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
গত ১১ জুলাই ডেইলি টাইমস নিউজ এবং ১২ জুলাই দৈনিক মুক্ত খবর ও আলোকিত প্রতিদিনে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। রবিবার (১২ জুলাই) সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় হোটেলটির সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে হোটেলের সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে সরেজমিনে দেখা যায়, নোয়াখালী রোডসংলগ্ন যাত্রী ছাউনিটি দখল করে সেখানে একটি খাবারের হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ওই পথ দিয়ে চলাচল করলেও তারা ছাউনিটি ব্যবহার করতে পারছিলেন না। ফলে বৃষ্টি, রোদ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘নিউ ভাই ভাই হোটেল’টি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছিলেন জসিম নামে এক ব্যক্তি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটির কথিত মালিক নাছির উদ্দিন। একই স্থানে ‘নাছির টেলিকম’ নামে আরেকটি দোকান পরিচালনা করতে দেখা যায় তাকে। অন্যদিকে, হোটেলের ক্যাশ কাউন্টারে বসে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেখা যায় জসিমকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্মিত সরকারি অবকাঠামোকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে একদিকে সরকারি সম্পদ বেহাত হচ্ছিল, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিলেন মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে।
সংবাদ প্রকাশের আগে এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেছিলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তাছাড়া এটি সরাসরি আমাদের দায়িত্ব নয়। জেলা পরিষদ বা সড়ক বিভাগ সহায়তা চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”
একই বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় জানিয়েছিলেন, “যাত্রী ছাউনি দখলের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান শেষে ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় বলেন, “সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করে জনসাধারণের জন্য নির্মিত স্থাপনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তাদের মতে, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রবণতা রোধ করা সম্ভব।