নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্র বেলঘড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ার কাজিপুর (ত্রিমোহনী) এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল, রোপিত গাছ কেটে ফেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালের ২৮ জানুয়ারির ১২৫৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মৃত ইব্রাহিম খানের উত্তরাধিকারীরা মোট ১১২ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে এক পক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে এবং সম্প্রতি আরও জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঈদুল আজহার আগে বিবাদমান জমিতে থাকা সুপারি ও লেবুর গাছ কেটে ফেলা হয়। এছাড়া অবশিষ্ট জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তা প্রতিহত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মাকসুদ খান পলাশ, রবিউল আউয়াল, খাদেমুল ইসলাম, হাবিব খান, মিন্টু খান ও আলমসহ স্থানীয়রা।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও রাস্তা বন্ধ করার যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। তারা পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযুক্ত মোনায়েম খানের পরিবারের সদস্যরা জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, শরিকদের মধ্যে জমির সীমানা ও বণ্টনসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তারা নাকচ করেন।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পৈতৃক সম্পত্তির সুরক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।