নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া মহল্লায় একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষক দম্পতির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলার শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন খাঁন নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই ঘটনায় ভবনটির শেয়ার পার্টনার আব্দুল মান্নানও পৃথক একটি অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিসবাহ উদ্দিন খাঁন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক এবং তাঁর স্ত্রী শহরের চক দৌলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।
লিখিত অভিযোগে মিসবাহ উদ্দিন খাঁন উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া এলাকার ‘বন্ধন সোসাইটি’ নামের একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে যান। এ সময় বেলায়েত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, জাকির হোসেনসহ কয়েকজন তাদের ওপর চড়াও হয়ে বিনা উসকানিতে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভবনটির শেয়ার পার্টনার আব্দুল মান্নান এগিয়ে এসে দম্পতিকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়।
আব্দুল মান্নান তাঁর অভিযোগে জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করার পর অভিযুক্তরা নিরাপত্তা গেট বন্ধ করে তাদের আটকে রাখেন। পরে ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও মারধর করা হয়। এ সময় তাদের ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া, মারধরের একপর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।
আব্দুল মান্নান আরও দাবি করেন, বেলায়েত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও জাকির হোসেন ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রুপিং করে অন্যান্য সদস্যদের ওপর নানা ধরনের হয়রানি চালিয়ে আসছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে ভবনটির পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং অনেক মালিক ফ্ল্যাট বিক্রি করে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”