কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর-সুন্দলপুর সড়কের ষোলপাড়া-ভাগলপুর অংশে প্রায় ৩০ মিটার সড়ক ধসে ও ভেঙে গেছে। সংস্কারের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সড়কের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহীদনগর-সুন্দলপুর সড়কটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি ষোলপাড়া-ভাগলপুর অংশে সড়কের এক পাশে ভাঙন দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে ভাঙন বাড়তে থাকায় বর্তমানে প্রায় ৩০ মিটার অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস আগে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হয়। কিন্তু সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশের একটি পুকুর থেকে পানি সেচ দেওয়ার সময় পানি নিষ্কাশনের কারণে সড়কের পাশের মাটি সরে যেতে থাকে। একপর্যায়ে সড়কের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে ধসের সৃষ্টি হয়। তবে শুধু পানি সেচের কারণেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সড়কের পাশের মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি সময়মতো নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও কমানো সম্ভব হতো। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তারা আরও জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত পরিদর্শন, ধসের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুকুরের পানি সেচের কারণে সড়কের ক্ষতি হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ধসে যাওয়া অংশ মেরামত না করে সড়কের ক্ষতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি কমবে।