কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর (মসজিদপাড়া) এলাকায় বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর মো. ইমন হোসেন বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে হামলা ও অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর (মসজিদপাড়া) এলাকার মৃত আনা মিয়ার ছেলে সাইফুল (৩৭), খোরশেদ আলমের ছেলে সাগর ও শাকিল, অহিদুর রহমানের ছেলে তারেক, ফরিদ মিয়ার ছেলে রায়হানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা ও নির্মাণকাজ নিয়ে ইমন হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী সাইফুল, সাগর ও শাকিলদের বিরোধ চলছিল। ২০০৮ সালে ইমন তার বসতবাড়ির সীমানা নির্ধারণ করেন এবং ২০২৫ সালে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তবে শুরু থেকেই প্রতিবেশীরা এতে বাধা দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ জুলাই বিকেলে নির্মাণকাজ চলাকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং পুনরায় কাজ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইমন, তার স্ত্রী, ভাই ও ভাতিজা বাড়ির সামনে গেলে অভিযুক্তরা রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় ইমনের ভাইয়ের মাথায় চাপাতির কোপ দেওয়া হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্যদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ইমনের ভাতিজার হাতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। আহতদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ইমনের স্ত্রীও হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানিও করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ছাড়া হামলাকারীরা নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যায় এবং প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি বসতঘরের জানালার থাই গ্লাসও ভেঙে ফেলা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাইফুল বলেন, “আমাদের সঙ্গে ইমনদের বাড়ির দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হলেও তারা আবারও অন্যায়ভাবে দেয়াল নির্মাণ শুরু করে। এতে বাধা দিলে ইমন তার শ্বশুরবাড়ি শ্রীপুর থেকে বহিরাগত লোক এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার ভাগিনা সাগর গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।”
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন বলেন, “দুই পক্ষের বাড়ির দ্বিতীয় তলার দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”