কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর দফায় দফায় হামলা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বসতঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুটপাটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমা আক্তার (৩৫) আটজনের নাম উল্লেখ করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের বুধড়া গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুল হুদা মজুমদার রিপন জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন। প্রবাস জীবনে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি বাড়িতে একটি পাকা দালান নির্মাণ করেন এবং যৌথ পরিবারের বিভিন্ন খরচ বহন করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালে পারিবারিকভাবে শরীয়াহ মোতাবেক তাছলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন লুৎফুল হুদা মজুমদার। তবে ছুটি কম থাকায় বিয়ের মাত্র ২১ দিনের মাথায় তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর থেকে স্বামীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তাছলিমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
তাছলিমার অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্তা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি আগে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে জানান।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার সকালে ভাশুর নজরুল হুদা স্বপন, নাজমুল হুদা রতন, রতনের ছেলে রুদ্র ও রাফিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বসতঘরের তালা ভেঙে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। পরে তাকে মারধর করা হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে সেখানে থাকা প্রায় ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর দাবি, লুট ও ভাঙচুরে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তাছলিমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে কুপিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী তাছলিমা আক্তার বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাদের নির্যাতনের কারণে আমার গর্ভের সন্তানও নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও স্বামীর কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে আগে কোনো ব্যবস্থা নিইনি। কিন্তু গত শুক্রবার তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ঘরের তালা ভেঙে হামলা চালায় এবং স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
অভিযোগের প্রধান অভিযুক্ত নজরুল হুদা স্বপনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”