1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে গুজবের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ১২

ভোলাহাট প্রতিনিধি (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৬০ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পূর্ব শত্রুতার জের ও গুজবকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আসাদুল ইসলাম (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এ ঘটনায় মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে যেতে দেখা গেছে।

গত ১৯ জুন (শুক্রবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল ইসলাম বটতলা গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসের তৃতীয় রোজার দিন উপজেলার বটতলা গ্রামের দেলোয়ার, আসাদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রশিদ এবং বাইসাপুকুর গ্রামের শাহীন আলী মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে দেলোয়ার গুরুতর আহত হন এবং তার স্মৃতিশক্তি হারানোর দাবি করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আব্দুর রশিদ ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। ঘটনার কয়েকদিন আগে আব্দুর রশিদ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান।

স্থানীয়দের দাবি, ঢাকায় আব্দুর রশিদকে মারধরের খবরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের দিন সকালে আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনরা প্রতিপক্ষ ইলিয়াস ও তার জামাতা বাবলুর ওপর হামলা চালান। এতে তারা আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন।

এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আহত ইলিয়াস ও বাবলু মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আসাদুল, তার ভাই আশরাফুল ও আবু তালেবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি তার বোন খোদিজা এবং ভাই ফুজুল আলী ও নজরুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত কিছু লোক তাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশকেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বাড়ির আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। একটি মোটরসাইকেলও আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙচুর হওয়া বাড়িগুলো থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল ওয়াজিদ ফরহাদ জানান, ঘটনায় মোট ১২ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান, দুজন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত আসাদুল ইসলামকে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আহত দুই ব্যক্তি মারা গেছেন—এমন ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মো. হাসান তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার সার্বিক তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা আসামি করায় অনেক নিরীহ ব্যক্তি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে ঘটনার পর কয়েকদিন ধরে গ্রামে অনেকটা পুরুষশূন্য পরিবেশ বিরাজ করছে।

তবে স্থানীয়দের একাংশের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং পরবর্তী সংঘাত প্রতিরোধে স্থানীয় সমাজপতি সারোয়ার মাস্টার ও ইউপি সদস্য বাবুর ভূমিকাও প্রশংসনীয় বলে তারা মন্তব্য করেন।

এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর