কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা, দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করা এবং পুলিশের পিকআপ ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ১। মো: বিল্লাল হোসেন, ২। মোঃ ইউসুফ মিয়া ৩। মোঃ হাসান, ৪। মোঃ রিফাত, ৫। মোঃ হাবিব, ৬। মোঃ মফিজ, ৭। মোঃ আক্তার হোসেন, ৮। মোঃ সিফাত, ৯। মোঃ রবিউল, ১০। আবু ইউসুফ ইকরাম, ১১। মোঃ জুয়েল, ১২। মেঃ সরোয়ার হোসেন, ১৩। নুপুর শাহা, ১৪। মোঃ সোহাগ মিয়া, ১৫। মোঃ বিল্লাহ, ১৬। মোঃ সোহেল মিয়া, ১৭। মোঃ ইব্রাহিম খলিল, ১৮। মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ১৯। মোঃ আজিজুল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে উল্টোপথে চলাচলকারী অবৈধ থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক ও অটোরিকশা) নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছিল হাইওয়ে পুলিশ। গত ৯ জুন সকালে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা এলাকায় অভিযানকালে কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে প্রসিকিউশন দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিমসার আমবাজার এলাকায় উল্টোপথে চলাচল করে যানজট সৃষ্টি করায় একটি অটোট্রলি আটক করা হয়। চালকের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। পরে হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল ইউসুফ আলী অটোট্রলিটি থানার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় চালক হঠাৎ গাড়ির সামনে এসে লাফিয়ে উঠে হ্যান্ডেল ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এতে অটোট্রলিটি উল্টে গিয়ে সামনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক সামান্য আহত হন।
এরপর ওই চালক চিৎকার করে আশপাশের থ্রি-হুইলার চালকদের জড়ো করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসময় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন চালক ও দুষ্কৃতিকারী সংঘবদ্ধ হয়ে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও রাব্বি ইসলাম আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের ডাবল কেবিন পিকআপে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুরও চালায়।
ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি ও বুড়িচং থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব। কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পদ নষ্টের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।