কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ডা. রেজাউল করিম, তার ছেলে তানভীর এবং ছোট ভাই আকরামসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ডা. রেজাউল করিম অভিযোগ করে জানান, গত ৩১ মে বিকেলে তিনি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় তার দোকানের সামনে কয়েকজন যুবক মাদক সেবন করছিল। এতে তার কর্মচারী বাধা দিলে তাদের সঙ্গে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে মনির, তার ছেলে মাহির, রাসেল, আল আমিন, হৃদয়, ইমরান, সাইদ, মিরাজ ও পারভেজসহ একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি, তার ছেলে ও ভাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আহত রেজাউল করিম দাবি করেন, হামলায় তার মাথায় তিনটি, ছেলে তানভীরের সাতটি এবং ছোট ভাই আকরামের ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া হামলায় তার আরোও দুজন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রায়পুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে অভিযুক্ত মনির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং উভয় পক্ষই আহত হয়েছেন। তার মাথায়ও দুটি সেলাই লেগেছে ও তার ছেলে মাহির আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই আহত হয়েছে এবং উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেননি।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।