1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অস্ত্র উদ্ধারে রহস্য: এজাহার, সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে ভিন্নতা

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১৩ বার পঠিত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের একটি ঘটনায় মামলার এজাহার, মামলার প্রধান সাক্ষী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার দাবি করা স্থানীয় ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাসিন্দার বক্তব্যে একাধিক অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, বসতঘরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘরের টিনের নিচ থেকে শপিং ব্যাগে মোড়ানো একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ মামলার প্রধান সাক্ষীর দাবি, তিনি সাদেকুর রহমানের ঘরের বিছানার ওপর একটি পিস্তল ও গুলি দেখেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বসতঘরের ভেতর থেকে পিস্তল, গুলি, লম্বা ছেনি ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

একই ঘটনায় উদ্ধারস্থল ও উদ্ধার হওয়া আলামতের ধরন নিয়ে এমন ভিন্ন বক্তব্য ওঠায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আসলে কোথা থেকে কী উদ্ধার হয়েছিল?

এ ছাড়া যে বাড়িকে কেন্দ্র করে অভিযান, সেখানে বসবাসকারী সাদেকুর রহমানকে মামলায় আসামি করা হয়নি। তাকে সাক্ষী হিসেবেও রাখা হয়নি। পুলিশের দাবি, অস্ত্রগুলো পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার বিভিন্ন বর্ণনায় যে ভিন্নতা উঠে এসেছে, তা মামলাটির তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

রাতের অভিযানে কী ঘটেছিল?
গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক একটার দিকে চৌদ্দগ্রাম থানার ৩নং কালিকাপুর ইউনিয়নের বদরপুর এলাকায় অভিযান চালায় থানা পুলিশ।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম থানার জিডি নং-১৩১৭, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬-এর ভিত্তিতে পুলিশ বিশেষ অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৩ আগস্ট রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মিরশ্বানি বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কালিকাপুর ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার কাজীবাড়ির সাদেকুর রহমানের বসতঘরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অবৈধ অস্ত্র রাখা হয়েছে। এরপর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ওই এলাকায় গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানে এসআই লিটন চাকমা, এএসআই জামাল উদ্দিন, এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই সেলিম, এএসআই নুরুল আমিন এবং দুই কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে যে অস্ত্রের কথা:
এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বসতঘরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণে টিনের নিচে রাখা একটি হলুদ রঙের শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়।

ব্যাগের ভেতরে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান এবং দুই রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা রাত ১টা ৪৫ মিনিটে আলামতগুলো জব্দ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে পাইপগানটির সঙ্গে ট্রিগার সংযুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। অস্ত্রটির দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি এবং ব্যারেলের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৬ ইঞ্চি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই কার্তুজের একটির গায়ে ‘12RWSIGECO12’ এবং অন্যটির গায়ে ‘NOBEL’ লেখা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও অস্ত্র ও কার্তুজের সঙ্গে জড়িত কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

প্রধান সাক্ষী বলছেন, বিছানায় ছিল ‘পিস্তল ও গুলি’:
মামলার প্রধান সাক্ষী ওই এলাকার মো. শরীফ। তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের সময় তার বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় তাকে ডেকে নেওয়া হয়। শরীফের ভাষ্য, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদেকুর রহমানের ঘরের ভেতরে পুলিশ সদস্যদের দেখেন।

তিনি বলেন, “আমি যাওয়ার পর পুলিশকে দেখলাম সাদেকুর রহমানের ঘরের বেডে বসে লেখালেখি করতেছে আর উদ্ধারকৃত পিস্তল আর গুলি বিছানার উপরে রাখা আছে। পুলিশ আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিলো।”

তার দাবি, পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তিনি বলেন, “পরে শুনেছি, আমি চলে আসার পর তার ঘর থেকে একটি লম্বা ছেনি আর একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে।”

প্রধান সাক্ষীর এই বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি যে অস্ত্র দেখেছেন সেটি যদি পিস্তল হয়, তাহলে এজাহারে কেন পাইপগানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? একইভাবে, তিনি যে স্থানে অস্ত্র দেখেছেন বলে দাবি করছেন, সেটি সাদেকুর রহমানের বসতঘর। কিন্তু এজাহারে অস্ত্র উদ্ধারের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বসতঘরের পেছনের পরিত্যক্ত ঘর।

স্থানীয়দের দাবি, ঘরের ভেতর থেকেই উদ্ধার হয়েছিল অস্ত্র:
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার দাবি করা ৮ থেকে ১০ জন স্থানীয় ব্যক্তি ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের দাবি, সাদেকুর রহমানের বসতঘরের ভেতরে সিলিংয়ের কাছ থেকে একটি লম্বা ছেনি, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি পিস্তল এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আলামত উদ্ধারের পর পুলিশ উপস্থিত লোকজনকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ওই সময় ঘরের ভেতরে পুলিশ সদস্য এবং সাদেকুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। পরে পুলিশ উদ্ধারকৃত আলামত নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছেন, বসতঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়নি কেন।

সাদেকুরের বক্তব্যও ভিন্ন:
সাদেকুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বসতঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসাতে আইয়ুব, মোতালেব ও খায়রুল এটা রেখে গেছে। আমার ঘরের বারান্দার চিপায় পাওয়া গেছে।”

তার এই বক্তব্যের সঙ্গে এজাহারে উল্লেখ করা পরিত্যক্ত ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বর্ণনারও পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ, একই ঘটনায় তিনটি ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে— পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, বসতঘরের পেছনের পরিত্যক্ত ঘর থেকে পাইপগান ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রধান সাক্ষী বলছেন, বসতঘরের বিছানার ওপর পিস্তল ও গুলি দেখেছেন। স্থানীয়দের দাবি, বসতঘরের ভেতর থেকে পিস্তল, গুলি, লম্বা ছেনি ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। আর সাদেকুর রহমান বলছেন, তার ঘরের বারান্দার একটি জায়গা থেকে আলামত পাওয়া গেছে।

আসামি নন, সাক্ষীও নন:
অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে সাদেকুর রহমানের বসতঘর ও এর আশপাশকে কেন্দ্র করে। কিন্তু মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। আবার তাকে মামলার সাক্ষী হিসেবেও রাখা হয়নি। এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের এই অবস্থানের কারণ জানতে চাওয়া হলে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসআই লিটন চাকমা বলেন, অস্ত্রগুলো পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সাদেকুরের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের প্রশ্ন:
পুলিশের সঙ্গে আগে থেকে তার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মাঝেমধ্যে পুলিশের সঙ্গে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

চোরাচালান ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যুক্ত বলতে ওই রকমভাবে যুক্ত না, একেবারে যে সরাসরি যুক্ত তা না। আমার বাড়ি তো বর্ডারের পাশে। আমার এলাকায় সবাই তো এগুলোতে যুক্ত বুঝছেন।”

অভিযানে থাকা দুই কর্মকর্তার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া:
মামলার ৩নং সাক্ষী এবং অভিযানে থাকা এএসআই মো. জামাল উদ্দিনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে অভিযানে থাকা এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বিস্তারিত তথ্য দিতে না চাইলেও বলেন, অস্ত্রটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য তিনি এএসআই জামাল উদ্দিন ও এসআই লিটন চাকমার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পুলিশের কাছে ছয় প্রশ্ন:
ঘটনার বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোছাইনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় পরে WhatsApp-এ লিখিতভাবে ছয়টি প্রশ্ন পাঠানো হয়।

প্রশ্নগুলো ছিল—
১. অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত ঠিক কোন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে? ২. উদ্ধারকৃত সব আলামতের বিস্তারিত বিবরণ কী? ৩. সাদেকুর রহমানকে মামলায় আসামি না করার কারণ কী? ৪. তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কি না? ৫. সাদেকুর রহমানের মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের কাছে আগে কোনো তথ্য ছিল কি না এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না? ৬. অস্ত্র যদি পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়ে থাকে, তাহলে ওই ঘরের মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলায় আসামি কিংবা সাক্ষী না করার কারণ কী?

প্রশ্ন পাঠানোর পর ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওসি আরিফ হোছাইনের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য:
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে এজাহার, সাক্ষীর বক্তব্য এবং স্থানীয়দের দাবির মধ্যে দেখা দেওয়া ভিন্নতা নিয়ে জেলা পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

যে প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে:
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—

প্রথমত, অস্ত্রটি আসলে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—পরিত্যক্ত ঘর, বসতঘরের ভেতর, নাকি বারান্দার কোনো অংশ থেকে? দ্বিতীয়ত, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি পাইপগান, নাকি পিস্তল? তৃতীয়ত, শুধু একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল, নাকি এর সঙ্গে লম্বা ছেনি ও চাইনিজ কুড়ালসহ আরও আলামত ছিল? চতুর্থত, অভিযানের মূল স্থান হিসেবে যে বাড়ির কথা এসেছে, সেই বাড়ির বাসিন্দাকে আসামি, সাক্ষী কিংবা সন্দেহভাজন হিসেবে কেন উল্লেখ করা হয়নি? পঞ্চমত, মামলার প্রধান সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে এজাহারের বর্ণনায় যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তার ব্যাখ্যা কী?

তদন্তেই কি মিলবে উত্তর?
অস্ত্র উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় উদ্ধারস্থল, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং সাক্ষীদের বক্তব্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এজাহারের তথ্য, প্রধান সাক্ষীর বক্তব্য, স্থানীয়দের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যে যে ভিন্নতা দেখা গেছে, তার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া সম্ভব।

পুলিশ বলছে, অস্ত্রটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচয় দেওয়া স্থানীয় কয়েকজন এবং মামলার প্রধান সাক্ষীর বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধারের প্রকৃত স্থান, উদ্ধার হওয়া সব আলামতের সঠিক বিবরণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হলে এই ঘটনায় ওঠা নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর