নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সরকারের খাস সম্পত্তি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। খাস সম্পত্তি উদ্ধার ও নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, তারা নিজস্ব দলিলকৃত জমির ওপরই ভবন নির্মাণ করছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের চৌথল গ্রামের সখিমদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির পাশের নৈদিঘী মৌজার আরএস ৭ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ২৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হলে ভূমিহীন হিসেবে স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার আশায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আবেদনটি নিষ্পত্তির আগেই একই গ্রামের প্রবাসী মুন্টু সরদারের স্ত্রী তানজিলা বিবি চলতি বছরের ১০ মার্চ ওই জমি দখল করে পাকা সড়ক সংলগ্ন স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ ঘটনায় গত ২৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আব্দুর রাজ্জাক।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে জমিটি খাস সম্পত্তি বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মৌখিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত করতে সেখানে লাল পতাকা টানিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ কিংবা খাস সম্পত্তি উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি গত বৃহস্পতিবার পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাকারিয়া জেমস অভিযোগ করেন, শুধু খাস জমিই নয়, পাকা সড়কের অংশ ঘেঁষেও ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে চৌথল, কয়রা, গুলিয়া, শিমুলকুচি ও ইসলামগাথীসহ অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামের মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা যৌথ স্বাক্ষরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আরেকটি লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন নির্মাণকারী তানজিলা বিবি বলেন, “জমিটি খাস নয়। আমাদের দলিলকৃত জমির ওপরই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
মনিয়ারী-বিশা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রনজু আলম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তানজিলা বিবির দলিলকৃত জমি এবং খাস জমি পাশাপাশি রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট করতে জমি মাপজোকের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরে আলম সিদ্দীক বলেন, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত জমি মাপজোক করে খাস সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি সড়কের পাকা অংশ ঘেঁষে ভবন নির্মাণের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, “তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে ভবনটি সরকারি খাস সম্পত্তির ওপর নির্মিত হচ্ছে, তাহলে আইনানুগভাবে ভবন উচ্ছেদসহ খাস সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”